সহকর্মীকে মা’রধর করা সেই শিক্ষিকা বরখাস্ত

বরিশালের মুলাদী উপজে’লায় বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষার্থীদের সামনে সহকর্মীকে মা’রধর করে আ’হত করার ঘটনায় অ’ভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মিনারা আক্তার লিপিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার জে’লা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মক’র্তা আব্দুল লতিফ মুজম’দার স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

পাশাপাশি তার বি’রুদ্ধে বিভাগীয় মা’মলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে উপজে’লা শিক্ষা কর্মক’র্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

অ’ভিযুক্ত মিনারা আক্তার লিপি উপজে’লার কাজিরচর ইউনিয়নের ৯৩ নম্বর চরকমিশনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

জানা গেছে, গত শনিবার (৭ ডিসেম্বর) চরকমিশনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খুরশিদা আক্তার হ্যাপিকে সমাপনী পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ্যে মা’রধর করেন সহকারী শিক্ষক মিনারা আক্তার লিপি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, শনিবার বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে সহকারী শিক্ষক মিনারা আক্তার লিপি পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে খুরশিদা আক্তার হ্যাপিকে বের হতে বলেন। হ্যাপি পরীক্ষা শেষ করে খাতাপত্র নিয়ে বের হবেন বলে জানালে লিপি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মা’রধর শুরু করেন। একপর্যায়ে লিপি কিল-ঘুষি দিয়ে ও দেয়ালে মাথা ঠুকে হ্যাপিকে মা’রাত্মক আ’হত করেন। পরে হ্যাপি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে লিপি বীরদর্পে বের হয়ে চলে যান। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে অবহিত করলে তাকে উ’দ্ধার করে মুলাদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বুধবার সকালে মিনারা আক্তার লিপিকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ পেয়েছি। অ’ভিযুক্ত শিক্ষককে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মুলাদী উপজে’লা শিক্ষা কর্মক’র্তা রফিকুল ইস’লাম জানান, সহকারী শিক্ষক মিনারা আক্তার লিপির বি’রুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খুরশিদা আক্তার হ্যাপি লিখিত অ’ভিযোগ দিয়ে ছিলেন। দুই সদস্যবিশিষ্ট ত’দন্ত কমিটি অ’ভিযোগটি খতিয়ে দেখে। ত’দন্তে মিনারা আক্তার লিপির বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জে’লা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মক’র্তা আব্দুল লতিফ মুজম’দার এক আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পাশাপাশি তার বি’রুদ্ধে বিভাগীয় মা’মলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সহকারী শিক্ষক খুরশিদা আক্তার হ্যাপিকে মা’রধরের ঘটনার ভিডিও ও স্থিরচিত্র ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে মিনারা আক্তার লিপির ঘনিষ্ঠজনরা জানান, সহকারী শিক্ষক খুরশিদা আক্তার হ্যাপি শিক্ষার্থীদের পাঠদানে পারদর্শী নন বলে অ’ভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের বিষয়ে তিনি খুব একটা মনোযোগীও নন। এনিয়ে বিভিন্ন সময় হ্যাপির বি’রুদ্ধে মন্তব্য করেন লিপি। ফলে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ঘটনার দিন হ্যাপি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের কাছে লিপির নামে কটূক্তি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লিপি তাকে মা’রধর করেন।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *