রোহিঙ্গাদের পক্ষে দাঁড়ালেন ড. ইউনুসসহ ৮ নোবেলজয়ী

রোহিঙ্গা গণহ’ত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আ’দালতে চলমান শুনানিতে মিয়ানমা’রের নেত্রী অং সান সু চিকে প্রকাশ্যে অ’প’রাধ স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্ম’দ ইউনুসসহ আট নোবেলজয়ী।

রোহিঙ্গা গণহ’ত্যা নিয়ে গাম্বিয়ার করা মা’মলায় নেদারল্যাণ্ডের হেগে আন্তর্জাতিক আ’দালতের শুনানি শুরুর প্রাক্কালে সোমবার (০৯ ডিসেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে গণহ’ত্যার জন্য সু চি ও মিয়ানমা’রের সেনা কমান্ডারদের জবাবদিহিতার আহ্বানও জানিয়েছেন এ নোবেলজয়ীরা।

বিবৃতিতে তারা বলেন, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে আম’রা রোহিঙ্গাদের বি’রুদ্ধে সংঘটিত হওয়া গণহ’ত্যাসহ অ’প’রাধগুলো প্রকাশ্যে স্বীকার করার জন্য নোবেলজয়ী অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানাই। আম’রা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে, এই নৃশসংসতায় নিন্দা জানানোর পরিবর্তে সেটা অস্বীকার করেছেন সুচি।

এর আগে রোহিঙ্গাদের প্রতি নৃ’শংসতার অ’ভিযোগে ২০১৯ সালের নভেম্বরে নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আ’দালত ‘ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস’-এ (আইসিজে) মিয়ানমা’রের বি’রুদ্ধে মা’মলা দায়ের করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।

আন্তর্জাতিক আ’দালতে ৪৬ পৃষ্ঠার এক অ’ভিযোগপত্র দেয় দেশটি। সেখানে তারা মিয়ানমা’রের বি’রুদ্ধে রোহিঙ্গাদের গণহ’ত্যা, ধ’র্ষণ ও উচ্ছেদের অ’ভিযোগ আনে।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) শুরু হয় ওই মা’মলার শুনানি। যা চলবে বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) পর্যন্ত। মিয়ানমা’র ও গাম্বিয়া, দুই দেশের প্রতিনিধিদলই এতে অংশ নেয়। প্রথম দিনে (মঙ্গলবার) আ’দালতে হাজির ছিলেন মিয়ানমা’রের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিও। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে মা’মলার শুনানি।

নোবেলজয়ীরা বলেন, রোহিঙ্গাদের বি’রুদ্ধে গণহ’ত্যা চালানোর ঘটনায় মিয়ানমা’রকে দায়ী করার জন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণে আম’রা গাম্বিয়ার প্রশংসা করি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শান্তির মানুষ হিসেবে আম’রা রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিয়মতান্ত্রিক বৈষম্য মোকাবিলা ও রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা, ভূমির মালিকানা, আ’ন্দোলনের স্বাধীনতা এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই। আম’রা সু চিকে নৈতিক দায়িত্ব পালনের এবং তার নজরদারির অধীনে সংঘটিত গণহ’ত্যার স্বীকৃতি ও নিন্দা জানাতে অনুরোধ করছি।

বিবৃতিতে সই করেছেন, শান্তিতে নোবেলজয়ী ইরানের শিরিন ইবাদি, লাইবেরিয়ার লেমাহ গবোই, ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কার্মান, উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইরেড মাগুয়ের, গুয়েতেমালার রিগোবার্টা মেনচ তুম, যুক্তরাষ্ট্রের জোডি উইলিয়ামস, ভারতের কৈলা’শ সত্যার্থী ও বাংলাদেশের ড. মুহাম্ম’দ ইউনূস।

রাখাইনে মিয়ানমা’র সেনাবাহিনীর অ’ত্যাচারের মুখে ২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। এরও আগে থেকে কয়েক ধাপে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।

তবে ২০১৭ সালে মিয়ানমা’র সেনাবাহিনী যে অ’ভিযান চালায় সেটাকে ‘জাতিগত নিধন’ ও ‘হ’ত্যাযজ্ঞ’ আখ্যা দেয় জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *