ড্রেসের টাকা না দেওয়ায় পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীকে!

স্কাউটের ড্রেসের টাকা না দেওয়ায় শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। পরে এনিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ওই শিশুরা বিকালে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের বাকাল হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সকালে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত গণিত পরীক্ষার সময় ১০ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে আটজনকে পরীক্ষায় বসতে দিলেও দুজনকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন প্রধান শিক্ষক।

এই ঘটনায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।

তৃতীয় শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, গণিত পরীক্ষা চলাকালে স্কাউটের ড্রেসের টাকা না দেওয়ায় ১০ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে ডেকে পাঠান প্রধান শিক্ষক মৃণালিনী তালুকদার। এরপর প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে স্কাউট ড্রেসের টাকা শনি ও রবিবার পরিশোধ করবে বলে জানায় আটজন। তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেয়া হলেও অন্য দুই শিক্ষার্থীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন প্রধান শিক্ষক।

মেয়েরা বাড়ি গিয়ে বিষয়টি জানালে অভিভাবকরা স্কুলে ছুটে আসেন। আরও অভিভাবকরা সেখানো জড়ো হলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এরপর স্কুলে উপস্থিত হন ইউএনও বিপুল চন্দ্র দাস। তিনি ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পান। এরপর দুই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এসময় ইউএনও তদন্ত সাপেক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিচার করার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলেও জানান দুই অভিভাবক। এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রিতীশ বিশ্বাস বলেন, ‘শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল হক তালুকদারের নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পেয়েছি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে শিক্ষা কর্মকর্তা নির্দেশ দিয়েছেন।’ ইউএনও বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বদলির সুপারিশ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে।’

এদিকে প্রধান শিক্ষক মৃণালিনী তালুকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভুল হয়েছে। ২২ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। আশা করি বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *