খালেদা জিয়ার রিপোর্ট সুপ্রীম কোর্টে, চলছে জামিন নিয়ে টানটান উত্তেজনা

আগামীকাল খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ এই শুনানি গ্রহণ করবে। ইতিমধ্যে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য রিপোর্ট সুপ্রীম কোর্টে পাঠানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া জানান, বিকেল সাড়ে তিনটায় খামবন্দি এই রিপোর্ট আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠান হয়েছে।

তিনি বলেন যে, এই রিপোর্টটিতে বেগম খালেদা জিয়ার বেশকিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে এবং কিছু কিছু পরীক্ষা করতে তিনি অসম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। তিনি জানান যে, যদি কোন রোগী পরীক্ষা করতে অসম্মতি জানায়, তখন করনীয় কিছু থাকেনা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে যে, আগামীকাল সকাল বেলা আপিল বিভাগে এই মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার জামিন নিষ্পত্তি হবে।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৩৭ টি মামলা রয়েছে, এর মধ্যে ৩৫ টি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। শুধুমাত্র জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তাঁর জামিন হয়নি এবং এই দুটি মামলায় তাঁর জামিন হলে মুক্তির পেতে কোন বাঁধা থাকবে না। বিএনপি এখন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে ১ নাম্বার বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে তাদের ভাষায় যেন কোনরকম কালক্ষেপণ না হয় সেজন্য বিএনপি বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে। আজ আদালতে বিএনপির আইনজীবীরা বড় ধরণের শো ডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এদিকে গত বৃহস্পতিবার বেগম খালেদা জিয়ার আপিল শুনানিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অপেশাদার এবং অশোভন আচরনের ভিত্তিতে আদালতের বেঞ্চে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

আপিল বিভাগ সুত্র বলছে যদি কেউ অপেশাদার, অশোভন এবং আপত্তিকর আচরণ করে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্ট ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। বিএনপির এই প্রস্তুতির পাশাপাশি আপিল বিভাগের এবং সুপ্রীম কোর্টের নিরাপত্তা জোরদারের সাথে সেখানে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র। অন্যদিকে বিএনপিপন্থী আইনজীবী ছাড়াও বিএনপির পক্ষ থেকে রাজপথে বিক্ষোভ সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের জড় হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বিশেষ করে পুলিশবাহিনী ঢাকায় যেন খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে যেন বিশৃঙ্খল কোন পরিবেশ সৃষ্টি না হয় এবং জীবন চলাচলে যেন কোন ভোগান্তি তৈরী না হয় সেজন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগও খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে বিএনপি যেন কোন ‘পরিস্থিতি’ তৈরী করতে না পারে সেজন্য সজাগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত থাকবেন। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা যদি কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করার চেষ্টা করে তা প্রতিহত করতে বদ্ধ পরিকর বলে আওয়ামী লীগপন্থী একজন আইনজীবী বাংলা ইনসাইডারকে জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়ার জামিন হবে কি হবে না এনিয়ে টানটান উত্তেজনা রয়েছে। অবশ্য উত্তেজনার পাশাপাশি বিএনপির মধ্যেও মতবিরোধ রয়েছে। বিএনপির মধ্যে এর পরিণতি নিয়ে নানা রকম মতবিরোধ রয়েছে।

বিএনপির একটি পক্ষ মনে করছে আগামীকাল যদি বেগম খালেদা জিয়ার জামিন না হয় তাহলে একদফা আন্দোলনে বিএনপিকে যেতে হবে। আবার অন্য একটি পক্ষ বলছে যে, খালেদা জিয়ার জামিন না হলে ধাপে ধাপে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কৌশল গ্রহণ করতে হবে বিএনপিকে। শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া জামিন পাবে কিনা পাবে না তা বোঝা যাবে আগামীকাল সকালে।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *